টানা বর্ষণে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার

Share

টানা মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি। প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


মূল প্রতিবেদন

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি এবং আশপাশের এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, অনেক গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ছোট সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। এ অবস্থায় নৌকা ও বিশেষ যানবাহনের মাধ্যমে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বন্যার কারণে কৃষি খাতেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমন ধানের জমি, শাকসবজি এবং মাছের ঘেরের অনেক অংশ পানির নিচে চলে গেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন হবে।

শিক্ষা কার্যক্রমও প্রভাবিত হয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, আবার কিছু বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, খাবার ভালোভাবে সংরক্ষণ এবং শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মেডিকেল টিম দুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।

সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী কয়েক দিন দেশের কিছু অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে পানি জমে আছে, সেখানে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার আহ্বান জানিয়েছে।

Table of contents [hide]

Read more

Local News