মামলার জট কমাতে ডিজিটাল বিচারসেবায় জোর, বাড়ছে ই-জুডিশিয়ারি উদ্যোগ

Share

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-ফাইলিং, অনলাইন কেস ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ চালু হলে মামলার জট কমানো সহজ হবে।


মূল প্রতিবেদন

বাংলাদেশের আদালতগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে মামলার জট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিচারসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের নথিপত্র ডিজিটাল সংরক্ষণ, অনলাইনে মামলা দায়ের (ই-ফাইলিং), ডিজিটাল কজলিস্ট এবং স্বয়ংক্রিয় কেস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বাড়বে। এতে বিচারপ্রার্থীরা ঘরে বসেই নিজেদের মামলার অগ্রগতি জানতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বিচারব্যবস্থার একটি বড় সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা। ডিজিটাল আর্কাইভ চালু হলে গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ সহজ হবে এবং নথি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।

আইনজীবীদের একটি অংশ মনে করেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং আদালতের নথির সুরক্ষা নিশ্চিত করে ডিজিটাল বিচারব্যবস্থা পরিচালনা করতে হবে।

এদিকে বিচারপ্রার্থীদের জন্য এসএমএস বা অনলাইন নোটিফিকেশন চালু হলে শুনানির তারিখ জানার জন্য বারবার আদালতে যেতে হবে না। এতে সময় ও খরচ—দুইই কমবে।

বিচার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই হবে না; বিচারক, আইনজীবী এবং আদালতের কর্মকর্তাদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর বিচারব্যবস্থা চালু হলে বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে, মামলার অগ্রগতি সহজে পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে মামলার জট কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Table of contents [hide]

Read more

Local News