জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে জলবায়ু অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মূল প্রতিবেদন
বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, বন্যা, দাবানল এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জলবায়ু পরিবর্তন আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে কার্বন নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়; এটি বর্তমান বাস্তবতা। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার কারণে কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে, যদিও বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে তাদের অবদান তুলনামূলকভাবে কম। তাই ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অভিযোজন (Adaptation) এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় (Loss and Damage) আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু সরকার নয়; বেসরকারি খাত, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। টেকসই নগরায়ন, বন সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশসহ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় অঞ্চল, কৃষি এবং পানি সম্পদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থায়ন বৃদ্ধির আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে (COP) অর্থায়ন, নির্গমন কমানো এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর—এই তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। বৈশ্বিক ঐকমত্য ছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয় বলেও তারা মনে করছেন।

