এশিয়া সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সম্ভাব্য ট্রাম্প–শি বৈঠক নিয়ে বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা

Share

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এশিয়া সফরে যাচ্ছেন, যেখানে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এই বৈঠকে সম্ভাব্য ট্রাম্প–শি জিনপিং শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্ব পেতে পারে।


মূল প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এশিয়া সফরে যাচ্ছেন, যেখানে আসিয়ান (ASEAN) সংশ্লিষ্ট একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের ভিত্তি তৈরি করা। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকলেও কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিতব্য আসিয়ান-সংশ্লিষ্ট বৈঠকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। বৈঠকে দক্ষিণ চীন সাগরের নিরাপত্তা, মিয়ানমারের সংকট, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

দক্ষিণ চীন সাগরকে ঘিরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তেজনা বেড়েছে। বিভিন্ন দেশ সেখানে নিজেদের সামুদ্রিক অধিকার নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। এ অবস্থায় একটি কার্যকর আচরণবিধি (Code of Conduct) চূড়ান্ত করার বিষয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারের চলমান সংকটও আসিয়ানের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংগঠনটির বিশেষ দূত ইতোমধ্যে দেশটির বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি ম্যানিলার বৈঠকেও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে, তবুও সংলাপ অব্যাহত থাকলে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে।

তাদের মতে, আসিয়ানের এই বৈঠক শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ। এখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও আলোচনার প্রভাব আগামী কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রতিফলিত হতে পারে।

Table of contents [hide]

Read more

Local News