সারসংক্ষেপ
অনলাইনভিত্তিক চাকরির আবেদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও চাকরির নামে প্রতারণার ঘটনাও বেড়েছে। ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সত্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।
মূল প্রতিবেদন
বর্তমানে চাকরির বিজ্ঞপ্তির বড় একটি অংশ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এতে চাকরিপ্রার্থীরা সহজেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য জানতে পারছেন। তবে এর পাশাপাশি ভুয়া চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও প্রতারণার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক প্রতারক প্রতিষ্ঠান আকর্ষণীয় বেতন, দ্রুত নিয়োগ এবং অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে নিবন্ধন ফি, প্রশিক্ষণ ফি বা অন্যান্য অজুহাতে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কোনো চাকরির জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ অথবা নির্ভরযোগ্য চাকরির পোর্টালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে দেখা উচিত। প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, যোগাযোগের তথ্য এবং ই-মেইল ডোমেইনও যাচাই করা জরুরি।
এছাড়া চাকরির নামে ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্য, ওটিপি (OTP), পিন নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্রের অপ্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার না করারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সাক্ষাৎকারের আগেই নিশ্চিত চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ দাবি করে, তাহলে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিত।
চাকরিপ্রার্থীদের আরও সচেতন হতে হবে ভুয়া ই-মেইল, ফিশিং লিংক এবং নকল ওয়েবসাইট সম্পর্কে। সন্দেহজনক কোনো বিজ্ঞপ্তি দেখলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানানো যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তুললে চাকরির নামে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
চাকরির আবেদন করার আগে যা যাচাই করবেন
- প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট রয়েছে কি না।
- বিজ্ঞপ্তির তথ্য একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎসে মিলিয়ে দেখুন।
- আবেদন বা নিয়োগের নামে অগ্রিম অর্থ চাওয়া হচ্ছে কি না।
- ই-মেইল ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করুন।
- ব্যক্তিগত ব্যাংক তথ্য বা OTP কখনো শেয়ার করবেন না।
- সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।




