spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

“লবণ পানির আগ্রাসন আর খাল ভরাট

উপকূলীয় কয়রায় কৃষিখাত ধ্বংসের মুখে ” কয়রা (খুলনা)প্রতিনিধি সুন্দরবন উপকূলীয় উপজেলা খুলনার কয়রায় সরকারি খাল-বিল ও জলাশয়ে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ ও নেট-পাটা বসানোর কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দুষণ ও জলাবদ্ধতা বাড়ছে। এতে উপজেলার নদনদীময় কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভরাটকৃত খালের মধ্যে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি ও স্থাপনা। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা দুই দিক থেকেই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। গত কয়েক বছরে কয়েক কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে। চলতি বছর প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমির আমন চাষ অনিশ্চয়তায় পড়েছে।কয়রার শাকবাড়িয়া, বেদকাশী,বাগালী,নারানপুর,আমাদী,মহারাজপুর, এলাকার খালগুলোতে নেট-পাটা দিয়ে মাছ চাষের ফলে নৌকা চলাচল বন্ধের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।।একজন সফল কৃষক জানান, গত বছর ৩০ বিঘা জমিতে ২৫ হাজার টাকা খরচ করেও ১২ মণ ধান পেয়েছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের তথ্য মতে, কয়রায় ১৩৯৭টি খালের মধ্যে ২০টি একর থেকে বড়। এর মধ্যে ৬৫টি খাল ৪১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৩০ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। ১২টি খালে মামলা থাকায় ইজারা বন্ধ রয়েছে। ১২টি খাল থেকে বালু উত্তোলন করা হয়। ৪টি খাল সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে। ২০টি স্লুইসগেট সম্পূর্ণ অচল, ১৪টি সংস্কারযোগ্য এবং ৪টি নতুন স্লুইসগেটের প্রস্তাবনা রয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৩৯টি খালে লবণ পানির অনুপ্রবেশ বন্ধ করে মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করা গেলে বছরে ৩৭০ কোটি ৮০ লাখ টাকার ফসল উৎপাদন সম্ভব। এছাড়া উপকূলে আমন-বোরো আবাদের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি, ভুট্টা ও টমেটো চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন,খালের মধ্যে অবৈধভাবে বাঁধ-নেটপাটা দিয়ে পানি আটকানো সম্পূর্ণ বেআইনি। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের জমিতে মিষ্টি পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুত অভিযান শুরু করব। সু নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাল খন ও সংস্কারের মাধ্যমে কৃষিকে বাঁচাতে হবে। পরিবেশবিদরা বলছেন, খাল ভরাট ও দখল অব্যাহত থাকলে এক সময় তা সাগরে মিশে যাবে। ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শীতে পানির সঙ্কট আরও তীব্র হবে। কয়রার কৃষি বাঁচাতে অবিলম্বে খাল দখলমুক্ত করা, অবৈধ বাঁধ-নেটপাটা অপসারণ এবং খাল খননের কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কৃষকদের সচেতনতা থাকলে মিষ্টি পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে উপকূলের এই কৃষিপ্রধান অঞ্চল আবারও সবুজ ফসলে ভরে উঠবে। অন্যথায় খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার সংকট আরও ঘনীভূত হবে। মোক্তার হোসেন। কয়রা খুলনা।

Please follow and like us:
Md Mokter Hossain
Md Mokter Hossain
কয়রা প্রতিনিধি | আজাদ বার্তা মোক্তার হোসেন একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুলনার কয়রা উপজেলার বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয়, স্থানীয় সমস্যা ও সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে সংবাদ ও প্রতিবেদন করে আসছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে M.A. এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে B.A. ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি কয়রা সাংবাদিক ফোরাম ও কয়রা প্রেস ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি আজাদ বার্তার কয়রা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles