সারসংক্ষেপ
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বা ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
মূল প্রতিবেদন
বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR)। চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনের কারণে অনেক জীবাণু ধীরে ধীরে প্রচলিত ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের কারণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ জটিল সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন। সময়মতো কার্যকর ওষুধ না পাওয়ায় চিকিৎসার সময়, ব্যয় এবং মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ভাইরাসজনিত রোগ যেমন সাধারণ সর্দি-কাশি বা ফ্লুতে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো উপকার করে না। তবুও অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ গ্রহণ করেন, যা ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করলে নির্ধারিত কোর্স সম্পূর্ণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করে দিলে জীবাণুর একটি অংশ বেঁচে থাকতে পারে এবং পরে সেই জীবাণু আরও শক্তিশালী প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করতে পারে।
এছাড়া অন্যের প্রেসক্রিপশনের ওষুধ ব্যবহার, পুরোনো অ্যান্টিবায়োটিক পুনরায় খাওয়া বা ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ার প্রবণতা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার এবং হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে পারলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে করণীয়
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
- নির্ধারিত কোর্স সম্পূর্ণ করুন।
- অন্যের প্রেসক্রিপশনের ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
- ভাইরাসজনিত অসুস্থতায় নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না।
- অবশিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক পরে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করবেন না।
- অসুস্থ হলে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।




