সারসংক্ষেপ
বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মূল প্রতিবেদন
ডায়াবেটিস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া অসংক্রামক রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (IDF) তথ্য অনুযায়ী, কোটি কোটি মানুষ বর্তমানে এই রোগে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর নতুন রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রধান ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান এবং পারিবারিক ইতিহাস। তবে জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা, শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া এবং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া উচিত। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অতিরিক্ত ক্ষুধা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রক্তে শর্করার পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, যাদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ আছে বা ওজন বেশি, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস শুধু একটি রোগ নয়; এটি হৃদরোগ, কিডনি রোগ, চোখের সমস্যা এবং স্নায়ুর জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে করণীয়
- প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করুন।
- স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
- অতিরিক্ত চিনি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।
- নিয়মিত রক্তে শর্করার পরীক্ষা করুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।




