রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তির আশা

Share

চলতি অর্থবছরের শুরুতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


মূল প্রতিবেদন

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য বলছে, জুলাই মাসের প্রথমার্ধেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করে না, একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় মেটানো, আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিচালনা এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করার ফলে হুন্ডিনির্ভর লেনদেন কিছুটা কমেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই অর্থ দিয়ে অনেক পরিবার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়েও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করতে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ ও সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ব্যাংকিং, দ্রুত অর্থ স্থানান্তর এবং প্রণোদনা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবাহ বজায় থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তনের বিষয়গুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

সরকার ইতোমধ্যে নতুন কর্মসংস্থানের বাজার খুঁজে বের করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী মাসগুলোতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক থাকবে এবং দেশের বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।

Table of contents [hide]

Read more

Local News