সারসংক্ষেপ
শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের সুযোগ বাড়লেও এর নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ইউনেসকো। সংস্থাটি বলছে, প্রযুক্তি যেন সব শিক্ষার্থীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
মূল প্রতিবেদন
বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, ব্যক্তিকেন্দ্রিক (Personalized) শিক্ষা, মূল্যায়ন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এর পাশাপাশি নৈতিকতা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।
সম্প্রতি ইউনেসকোর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা শিক্ষা ব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে শেখার বৈচিত্র্য, ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ইউনেসকোর মতে, এআই কখনোই শিক্ষককে প্রতিস্থাপন করার প্রযুক্তি নয়; বরং এটি শিক্ষকদের কাজকে আরও কার্যকর ও শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। তাই শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ, নৈতিক নীতিমালা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সুস্পষ্ট নির্দেশিকা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এআই ব্যবহার করে প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার গতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠদান সম্ভব। তবে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি এবং প্রযুক্তিনির্ভরতার মতো বিষয়গুলোও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মবাজারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে ডিজিটাল দক্ষতা ও এআই-সম্পর্কিত জ্ঞান ধীরে ধীরে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নেও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
গুরুত্বপূর্ণ দিক
- শিক্ষায় এআই ব্যবহারে নৈতিকতা ও নিরাপত্তার ওপর জোর।
- শিক্ষককে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে এআই ব্যবহারের আহ্বান।
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা।
- শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব।




