spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থায় বাড়ছে আগ্রহ, দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা

আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (Alternative Dispute Resolution-ADR) পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, পারিবারিক, দেওয়ানি ও বাণিজ্যিক বিরোধের ক্ষেত্রে এডিআর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


মূল প্রতিবেদন

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে অনেক বিচারপ্রার্থীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই বাস্তবতায় আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি, অর্থাৎ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (Alternative Dispute Resolution-ADR), নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিআরের মাধ্যমে বিরোধ দ্রুত এবং তুলনামূলক কম খরচে সমাধান করা সম্ভব। বিশেষ করে পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ, ব্যবসায়িক চুক্তি এবং ক্ষুদ্র দেওয়ানি মামলায় এই পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।

এডিআরের আওতায় সাধারণত মধ্যস্থতা (Mediation), সালিশ (Arbitration) এবং সমঝোতা (Conciliation) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এসব প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়। এতে আদালতের দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় যেতে হয় না এবং সম্পর্কও অনেক ক্ষেত্রে অক্ষুণ্ন থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিআর ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো সময় সাশ্রয়। যেখানে একটি দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, সেখানে মধ্যস্থতার মাধ্যমে অনেক বিরোধ কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যেই নিষ্পত্তি সম্ভব।

আইনজীবীদের মতে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতেও নির্দিষ্ট ধরনের মামলায় এডিআর ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা এখনও পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেকে এই সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সরাসরি দীর্ঘ আদালত প্রক্রিয়ায় চলে যান।

ব্যবসায়িক মহলের প্রতিনিধিরা মনে করেন, বাণিজ্যিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও দ্রুত ও কার্যকর বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এডিআর ব্যবস্থাকে আরও জনপ্রিয় করতে প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারী তৈরি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ও জোরদার করতে হবে।

তাঁদের মতে, বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো এবং সাধারণ মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Please follow and like us:

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles