আজাদ বার্তা ডেস্ক | ৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (CEPA) স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ রপ্তানি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পাবে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এই বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক রপ্তানি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বিশেষ শুল্ক সুবিধা পাবে। এর ফলে দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়ার অন্যতম বড় ও উন্নত অর্থনীতি। দেশটির বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজারও আরও বিস্তৃত হতে পারে।
CEPA শুধু পণ্য রপ্তানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, সেবা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেও এই চুক্তি ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ রয়েছে। নতুন চুক্তির ফলে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শিল্প ও উৎপাদন খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা এবং পরিবর্তিত বাণিজ্য পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের জন্য নতুন রপ্তানি বাজার তৈরি ও বিদ্যমান বাজারে সুবিধা সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধার কাঠামোয় পরিবর্তন আসার প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়ছে।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন এই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।




