গত ২ জুলাই গোপালগঞ্জ আদালত আঙ্গিনায় যা ঘটেছে তা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি একটি পচে যাওয়া সমাজ ব্যবস্থার বহিঃপ্রকাশ। একজন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক শিক্ষানবিস আইনজীবীর মাথায় পেপারওয়েট ছুঁড়ে মারা – এটি শুধু ব্যক্তির উপর আক্রমণ নয়, এটি আদালত, আইন এবং বিচার ব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত।
ক্লোজ নয়, সংস্কার চাই
ঘটনার পর মন্ত্রণালয় তাকে “ক্লোজ” করেছে। আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এতেই কি সমস্যার সমাধান? রাষ্ট্রের কী লাভ হলো? বিচারপ্রার্থী জনগণের কী লাভ হলো?
নৈতিকতার পরিবর্তন না হলে আজকের এই “ক্লোজ” হওয়া কর্মকর্তা কাল অন্য জায়গায় পদোন্নতি পেয়ে একই কাজ করবে।
“ইল্লোত যায় না মরলে, খাছলত যায় না ধুলে”
। বদলি মানেই শাস্তি নয়, বদলি মানেই সমাধান নয়।
নিয়োগেই গলদ, বিচারে ভোগান্তি*
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বিচার বিভাগীয় কাঠামো যেভাবে গড়ে ওঠা উচিত ছিল, সেভাবে ওঠেনি। ফল যা হবার তাই হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি অধস্তন আদালতে। যেখানে এই দেশের প্রান্তিক জনগণ, গরিব-দুঃখী মানুষ বিচারের আশায় যায়।
অভিযোগের শেষ নেই
কারণ গোড়াতেই গলদ। বিচারক নিয়োগে কোটারি রাজনীতি, দলীয় তদবির। জামাত দেখে, বিএনপি দেখে, আওয়ামী লীগ দেখে চাকরি হয়। যে দেশে সরকারি চাকরি দলীয় পরিচয়ে হয়, সেখানে রাষ্ট্রের মালিক জনগণ সেবকদের কাছ থেকে কী আশা করবে?
জাতির বক্তব্য
আমরা মনে করি, বিচারক নিয়োগে কঠোর নীতি থাকা উচিত। ভদ্রতা, শিষ্টাচার, এবং মেধা। অধস্তন আদালতের বিচারক হতে হলে ন্যূনতম ৫ বছরের প্র্যাকটিসিং অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হোক। এরপর পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে স্বচ্ছ পরীক্ষা। সিস্টেমে না আসলে এই “হ-য-ব-র-ল” চলতেই থাকবে।
বারের ভূমিকা: দায় এড়ানো যাবে না
এখানে বারের ভূমিকা নিয়েও বড় প্রশ্ন আছে।
খুলনা মহানগর
যুগ্ম দ্বিতীয় আদালতে কয়েক মাস আগে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাসুমের সাথে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেখানে বার যদি সময়মতো শক্ত ভূমিকা রাখতো, তাহলে
মনে করলে এত পানি পদ্মা-মেঘনা-যমুনায় গড়াতো না। যদিও একটি অনির্বাচিত কমিটি ছিল। অনির্বাচিত কমিটির কি কাজ? নাইবা বললাম এ ব্যাপারে কিছু কথা।
বিচারক ভদ্রলোক ছিলেন, নরম প্রকৃতির। দূরত্ব সৃষ্টি না করে বিষয়টি আপসে মেটানো যেত। কিন্তু বার হয় দায়িত্বে দুর্বলতা দেখিয়েছে, নতুবা ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে চুপ থেকেছে। ফলাফল – একটি ছোট ঘটনা বড় আকার ধারণ করেছে।
এপিপির দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও জনমত
আর গোপালগঞ্জের ঘটনায় জড়িত যুগ্ম দ্বিতীয় আদালতের সেই মহিলা এপিপি? তার যোগ্যতা ও আচরণ নিয়েও প্রশ্ন।
ইতিপূর্বে আজাদ বার্তায় প্রকাশিত পোস্টে অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা জোরালো ভাষায় কমেন্টস করে বলেছেন –
দোষ না থাকলে মাথায় পেপার দিয়ে আঘাত করে
।
এই ধরনের উক্তি কোনো আইন কর্মকর্তার মুখে শোভা পায় না। আজাদ বার্তার আর্কাইভে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আছে। পাবলিকের কাছ থেকে ২০০ টাকা ঘুষ নেওয়া, আইনজীবীদের অপমান করা – এগুলো বিচারকের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুন্ন করছে।প্রয়োজনে আমরা তার ব্যাপারে কঠোর ভূমিকায় যাব। থলের বিড়াল বের করে দেব। আগে বিচার প্রার্থীর প্রাধান্যতা সম্মান মর্যাদা, তারপরে অন্য কথা।
শেষ কথা
আমরা সংকেত দিতে চাই। বিচার আঙ্গিনার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হোক, বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হোক – এটা কখনোই কাম্য নয়।
তাই দাবি একটাই।
ক্লোজ নয়, বদলি নয়। সংস্কার চাই
।নিয়োগে স্বচ্ছতা চাই। আচরণে জবাবদিহিতা চাই। বারকে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নইলে আদালতের চেয়ারে বসা মানুষগুলো জনগণের সেবক না হয়ে প্রভু হয়ে যাবে। আর আমরা, রাষ্ট্রের মালিকরা, অপমানিত হতেই থাকবো।




