
সর্ব অঙ্গে ঘা, মলম লাগিয়ে কি হবে? রন্ধ্রে রন্ধ্রে পচন ধরেছে। আজ সব পেশারই ইজ্জত নষ্ট হচ্ছে। আর এর জন্য দায়ী কে? রাষ্ট্র, সরকার, কারণ পলিসি তো তারাই বানায়। বুদ্ধিজীবী বলতে যাদের বুঝি, তাদের মধ্যে আইনজীবীরা অগ্রগামী। অথচ সেই আইনজীবীদের আজ আর্থিক-সামাজিক অবস্থান তলানিতে। এ কথা তারাই ভালো বলতে পারবে। লেখাপড়া নাই, গবেষণা নাই। সাংবাদিক দাবি করে কিন্তু বিশ্ব সম্পর্কে ধারণা নাই। উকিল কিন্তু কেতাব চেনে না। পাঁচ মিনিটের সাবমিশনে চার মিনিটই যায় “স্যার স্যার ” বলতে। এটাই আজ পেশার দুরবস্থা। এর উপর আবার নতুন বোঝা। হাইকোর্টের নতুন সার্কুলার।
আগে এনরোলমেন্ট ফি ছিল হাতের নাগালে। এখন প্রথম চান্সেই ১২,০০০ টাকা। তারপর অনলাইন পিটিশনের জন্য আরও ১,০০০ টাকা। একজন মফস্বলের ছেলে ঢাকা এসে এই টাকা কোথায় পাবে? তার উপর আবার ১০ মার্কের MCQ। ৫০ না পেলে ফেল। প্রশ্ন হলো, যারা বার কাউন্সিল পাস করে বছরের পর বছর প্র্যাকটিস করছে, তাদের আবার MCQ কেন? জুনিয়র আইনজীবী যদি নিজের ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারে, যদি “স্যার স্যার” করে সময় কাটায়, তবে সেটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। কিন্তু তাই বলে ন্যায়ের দরজায় এত বড় তালা?
এই ফি, এই পরীক্ষা — এটা কি মেধা যাচাই, নাকি গরীবের জন্য বাধা? সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে তোলপাড়। কারণ মানুষ বুঝে গেছে, এভাবে চললে কোর্টে একদিন শুধু টাকাওয়ালারাই থাকবে। মেধা থাকবে না। রাষ্ট্রের কাজ পেশার মান বাড়ানো। পেশাজীবীদের পথ সহজ করা। কঠিন করে দেয়া নয়। আজ যদি আইনজীবী বাঁচে, কাল আইন বাঁচবে। আইন বাঁচলে দেশ বাঁচবে। সময় এসেছে প্রশ্ন তোলার। ন্যায় কি শুধু ধনীদের জন্য।





