১৯৭১। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। দেশ স্বাধীন হলো। কত লক্ষ প্রাণ গেল, কত মা বোনের ইজ্জত গেল — সেই হিসাবের বিতর্কে যাচ্ছি না। কারণ এই মাটির ঘাসও জানে, এই নদীর পানিও জানে রক্ত কতটা ঝরেছে। যে রক্ত দিয়ে কেনা এই স্বাধীনতা তার দাম টাকা দিয়ে হয় না।
ভালো কথা। কিন্তু আজ ২০২৬ সালে এসে একটা অমীমাংসিত প্রশ্ন জাতির সামনে দাঁড়িয়ে: মুক্তিযুদ্ধ কি ভাতার জন্য হয়েছিল?
অধিকাংশই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা
জাতি দেখেছে , ১৬ ডিসেম্বরের কয়েকদিন আগে যাদের নামও কেউ শোনেনি, যাদের চেহারাও কেউ দেখেনি — তারাই আজ “বড় মুক্তিযোদ্ধা”। খোঁজ নিলে দেখা যায়, অধিকাংশই ভুয়া। তারা আজ মাসে মাসে হাজার হাজার টাকা ভাতা নিচ্ছে।
একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। জাতি তাকে সারাজীবন মাথায় তুলে রাখবে, সম্মান করবে, শ্রদ্ধা করবে। কিন্তু ভাতা?
আমেরিকার ভেটেরানরা কি শুধু ভাতার জন্য যুদ্ধ করে? ভিয়েতনাম, চীন, জাপানের মুক্তিযোদ্ধারা কি রাষ্ট্রের কাছে মাসিক ভাতা চায়? তারা যুদ্ধ করেছে দেশের জন্য, আদর্শের জন্য। ভাতা তাদের পরিচয় না।
আর এখন দেখেন কি অবস্থা:
কালকের মুদি দোকানদার, আজ মুক্তিযোদ্ধা।
*পরশুর রিকশাওয়ালা, আজ কমান্ডার।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর হঠাৎ তাদের স্মৃতি ফিরে এসেছে!
কোটি কোটি টাকা লুট
তাহলে আমরা এখানে কেন?
কারণ কিছু লুটেরা মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র নামটাকে পুঁজি বানিয়েছে। ১০ টাকার ভাতা না, হাজার টাকার লুট। এটা শোভনীয় না, এটা দেশদ্রোহিতা।
মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়নি। ৭১ এ জাতি পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লড়েছে। আজ লড়তে হবে এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নামধারী লুটেরাদের বিরুদ্ধে।
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রাষ্ট্রের দায় আছে — চিকিৎসা, বাসস্থান, সম্মান। কিন্তু ভাতা দিয়ে তাদের ছোট করা যাবে না। আর ভুয়াদের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদই হোক। কবিতার ছলে বলতে হয় :
“আজকের মুক্তিযুদ্ধ।
রক্ত দিয়ে কেনা পতাকা,
ভাতা দিয়ে কেনা যায় না।
ইতিহাস একদিন বিচার করবে কে ছিল দেশপ্রেমিক, আর কে ছিল লুটেরা”।




