spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

১৮ আগস্ট: খুলনার ভুলে যাওয়া বিজয় দিবস

০১: বিস্মৃতির বেদনা: আজ বৃহত্তর খুলনাবাসির কারো মনে নেই এই দিনটির কথা। ১৪ আগস্ট পাকিস্তান। ১৫ আগস্ট হিন্দুস্তান। কিন্তু ১৮ আগস্ট খুলনা? সেই কথা কেউ বলে না। জানলেও মুখে নিতে চায় না। যে দিনে একটা জেলা বেঁচে গিয়েছিল, সে দিনটাই আজ বিস্মৃত।

০২: তিন দিনের ভারত: ১৪ আগস্ট রেডক্লিফ রোয়েদাদ ঘোষণা হলো। মানচিত্রের কাঁচিতে খুলনা কেটে পড়লো হিন্দুস্তানের দিকে। ১৪ থেকে ১৮ আগস্ট – এই তিন দিন খুলনা ছিল ভারতের মধ্যে। গেরুয়া পতাকা পতপত করে উড়ছিল। মুর্শিদাবাদ চলে গেল, খুলনাও যাওয়ার পথে।

০৩: বেলভেডিয়ারের দেন-দরবার: কে ঠেকাবে? কে বাঁচাবে? তখন খুলনা সদর-বাগেরহাট আসনের বাংলা বিধানসভার সদস্য *খান এ সবুর*। মাথায় মামলা। তবুও কোলকাতায় বসে দিল্লি প্রশাসনের সাথে দেন-দরবার থামাননি। তার সাথে ছিলেন মজিদ সাহেব, জলিল সাহেব, দিলদার সাহেব, মোস্তাগাউসুল হক ও একরাশ স্থানীয় নেতৃস্থানীয় কাফেলা। অবশেষে ১৮ আগস্ট খুলনা হলো পাকিস্তানভুক্ত। মুর্শিদাবাদকে বলি দিয়ে খুলনাকে বাঁচানো হলো।

০৪: যদি হিন্দুস্তানে থাকতো? ভাবতে পারেন প্রিয় পাঠক ? কাশ্মীরে, গুজরাট সহ সারা ভারতে মুসলমানদের উপর যেভাবে নির্যাতন হয়েছে, খুলনার মানুষকেও সেই কবলে পড়তে হতো। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু ইতিহাস সত্য। সবুর সাহেবের অবদান অনন্য। যার প্রাপ্য তাকে দিতে হবে।

০৫: ২৫ আগস্ট হাদিস পার্কের ঘোষণা: ১৮ আগস্ট বিজয় দিবস পালন হয়নি। পালন হয়েছে ২৫ আগস্ট খুলনার হাদিস পার্কে। হাজার হাজার মানুষের মাঝে খান এ সবুর বলেছিলেন – _”খুলনার মানুষের একদিন হয়তো এই দিনটির কথা মনে থাকবে না। কিভাবে হিন্দুস্তানের কবল থেকে খুলনাকে মুক্ত করেছিলাম আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে।”_ আজ তাঁর সেই কথাই সত্যি হলো।

০৬: আমাদের দাবি:

১. ১৮ আগস্টকে “খুলনা মুক্তি দিবস” হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিন।

২. ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করুন।রাজনীতির জন্য সত্যকে ছোট করবেন না।

৩. স্কুল-কলেজে পড়ান। নতুন প্রজন্ম জানুক বেলভেডিয়ার থেকে হাদিস পার্কের গল্প।

শেষ কলম: একদিন আন্দোলনে যেতে পারিনি বলে অবদান নাই – এটা বলার সুযোগ নাই। ৭৮ বছর আগে* খুলনা বাঁচাতে কিছু মানুষ কোলকাতায় রাত জেগেছিল। আজকের দিনটা খুলনাবাসীর জন্য বড় ক্লান্তিকাল। আসুন স্মরণ করি। ভুলে না যাই।

Please follow and like us:
অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ
অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ
## সম্পাদক ও প্রকাশক **অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ** একজন প্রথিতযশা আইনজীবী, লেখক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুলনা বারে সুনামের সঙ্গে আইন পেশায় নিয়োজিত থেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। সমাজ, ইতিহাস, আইন, মূল্যবোধ ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর **১০৬টিরও বেশি গ্রন্থ** প্রকাশিত হয়েছে, যা পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত। সত্য, নির্ভুলতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি **আজাদ বার্তা**-এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন। পাশাপাশি **আজাদ টিভি** এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, জনসচেতনতা ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে **আজাদ বার্তা** নির্ভীক, দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ### উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ * শনির কবলে বাংলাদেশ * ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর খুলনা * অপসংস্কৃতির ভয়াল থাবা * জনতার জবানবন্দী * একটি অবিস্মরণীয় নাম খান-এ-সবুর * জিন্নাহ কি দ্বি-জাতিতত্ত্বের প্রবক্তা? * কালনাগিনীর ছোবলে বাংলাদেশ * বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় * আমরা বাঙালি না বাংলাদেশী * না বলা কিছু কথা

4 COMMENTS

  1. [1328]bet365 ee Login Rasmi | Slot Online Dipercayai Deposit TNG,Akses bet365 ee untuk pengalaman slot online dipercayai. Muat turun APK sekarang, daftar akaun dengan mudah dan nikmati deposit TNG yang pantas. Sertai kami hari ini! visit: bet365 ee

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles