আজাদ বার্তা ডেস্ক | ৪ আগস্ট ২০২৬
শহরের কোলাহল থেকে দূরে সবুজ ধানক্ষেত, শান্ত পুকুর আর গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ। সঙ্গে মাছ ধরা, গরুর যত্ন নেওয়া, চায়ের দোকানে আড্ডা কিংবা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো—বাংলাদেশের গ্রামের এমন সাধারণ জীবনই এখন বিদেশি পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠছে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া গ্রাম ধীরে ধীরে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহের জায়গা হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন সেখানে আসা পর্যটকেরা।
গত কয়েক বছরে শতাধিক বিদেশি পর্যটক একদুয়ারিয়া গ্রাম ঘুরে গেছেন। প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কাছ থেকে দেখার সুযোগই তাদের আকৃষ্ট করছে।
গ্রামে অবস্থানকালে পর্যটকেরা শুধু দর্শনার্থী হয়ে থাকছেন না। পুকুরে মাছ ধরা, গবাদিপশুর যত্ন নেওয়া, স্থানীয় খাবার রান্না শেখা এবং গ্রামের মানুষের সঙ্গে খেলাধুলা ও আড্ডায় অংশ নেওয়ার মতো নানা অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন তারা।
সম্প্রতি ব্রিটিশ দম্পতি তাজ ও লিবিও একদুয়ারিয়ায় কয়েক দিন কাটান। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন ও স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তার অভিজ্ঞতা তারা নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তুলে ধরেন।
গ্রামের মানুষের সঙ্গে মিশে স্থানীয় খাবার তৈরি শেখা থেকে শুরু করে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, তরুণদের সঙ্গে ফুটবল খেলা এবং চায়ের দোকানে আড্ডা—তাদের ভ্রমণের অংশ ছিল এসব সাধারণ কর্মকাণ্ডও।
বিদেশি পর্যটকদের কাছে গ্রামের মানুষের আন্তরিকতাও বিশেষভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। ভাষাগত পার্থক্য থাকলেও স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ ও দৈনন্দিন কাজে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার সুযোগ পাচ্ছেন।
একদুয়ারিয়ায় গ্রামভিত্তিক পর্যটনের এই উদ্যোগ শুরু করেন স্থানীয় তরুণ জাফর তুহিন। ২০২২ সাল থেকে তিনি পর্যটকদের জন্য গ্রামীণ জীবনকেন্দ্রিক ভ্রমণের ব্যবস্থা করে আসছেন।
বাংলাদেশে পর্যটন বলতে সাধারণত সমুদ্রসৈকত, পাহাড় কিংবা ঐতিহাসিক স্থানের কথা সামনে এলেও একদুয়ারিয়ার অভিজ্ঞতা ভিন্ন একটি সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। দেশের সাধারণ গ্রামীণ জীবন, স্থানীয় খাবার, সংস্কৃতি এবং মানুষের আতিথেয়তাও বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে।
গ্রামভিত্তিক এমন পর্যটন আরও বিস্তৃত হলে স্থানীয় সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি গ্রামের মানুষের জন্য নতুন আয়ের সুযোগও তৈরি হতে পারে।




