সারসংক্ষেপ
কাজ, পড়াশোনা ও বিনোদনের জন্য দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা ট্যাব ব্যবহার করায় বাড়ছে ডিজিটাল ক্লান্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম চোখ, ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
মূল প্রতিবেদন
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কল্পনা করা কঠিন। অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা বিনোদন—সবকিছুতেই স্ক্রিনের ব্যবহার বেড়েছে। তবে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকলে শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, একটানা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা এবং চোখে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ঘাড় ও কাঁধে ব্যথাও অনুভূত হয়।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতে ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করলে নীল আলো (Blue Light) মেলাটোনিন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের মানও কমে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে উদ্বেগ, মানসিক চাপ এবং মনোযোগের ঘাটতিও বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রযুক্তি থেকে বিরতি নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কাজের সময় প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানো—যা ২০-২০-২০ নিয়ম নামে পরিচিত—চোখের ক্লান্তি কমাতে কার্যকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, হাঁটা বা অন্য কোনো শখের কাজে সময় দিলে স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমে এবং মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়।
স্ক্রিন টাইম কমানোর ৮টি উপায়
- একটানা দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করবেন না।
- ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করুন।
- ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করুন।
- অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় “ডিজিটাল বিরতি” নিন।
- বই পড়া বা হাঁটার মতো অফলাইন অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণ করুন।
- চোখ বা ঘুমের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।




