সারসংক্ষেপ
পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, এটি হৃদ্স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং কর্মক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত কম ঘুম দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
মূল প্রতিবেদন
ব্যস্ত জীবন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং মানসিক চাপের কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন সাধারণত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। এর চেয়ে কম ঘুম হলে শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় শরীর নিজেকে পুনর্গঠন করে। মস্তিষ্ক দিনের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে, স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী হয় এবং শরীরের বিভিন্ন কোষ মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়। তাই নিয়মিত কম ঘুম হলে মনোযোগ কমে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং উদ্বেগ বা বিষণ্নতার মতো সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপ ব্যবহার কমিয়ে দিলে ভালো ঘুমে সহায়তা করে।
এছাড়া সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম খাওয়া, শোবার ঘর শান্ত ও আরামদায়ক রাখা এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করাও ভালো ঘুমের জন্য উপকারী।
যদি দীর্ঘদিন অনিদ্রা, নাক ডাকা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাবের মতো সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভালো ঘুমের জন্য ৮টি পরামর্শ
- প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান।
- অন্তত ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
- ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টিভি কম ব্যবহার করুন।
- সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা-কফি এড়িয়ে চলুন।
- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন।
- শোবার ঘর ঠান্ডা, নীরব ও অন্ধকার রাখুন।
- রাতে ভারী খাবার কম খান।
- দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।




