কয়রা,প্রতিনিধি
খুলনার কয়রা উপজেলায় সরকারি বরাদ্দের পানির ট্যাংকি বিতরণে অনিয়ম ও নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে একাধিক ট্যাংকি নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে প্রকৃত দরিদ্র ও পানিবঞ্চিত পরিবারগুলো সরকারি এই সুবিধা থেকে বাদ পড়ছে। স্থানীয়রা জানান, এক পরিবারের একাধিক সদস্য ভিন্ন ভিন্ন এনআইডি ব্যবহার করে আবেদন করায় একই পরিবারে একাধিক ট্যাংকি যাচ্ছে। আবার আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা ট্যাংকি পেয়েছিলেন তাদের কেউ কেউ নাম-বেনামে আবারও পাচ্ছেন।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর কয়রা, মহারাজপুরের উত্তর-দক্ষিণ মঠবাড়ী, দোশালি, মহেশ্বরীপুরের তেঁতুলারচর, চৌকুনী এবং উত্তর বেদকাশীর পাথরখালী, শাকবাড়িয়া এলাকায় লবণাক্ততার প্রকোপ বেশি হলেও সেখানকার দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। ৬ নম্বর কয়রার সঞ্জয় মন্ডল বলেন,আমার পরিবারে ৫ জন। বর্ষা শেষে পানি কিনে খেতে হয়। অনেকবার আবেদন করেও ট্যাংকি পাইনি। অথচ এলাকার স্বাবলম্বীরাও ট্যাংকি পাচ্ছে।”
৫ নম্বর কয়রার হাদরী বেগম বলেন, প্রতিদিন পানি কিনে খাই। মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও ট্যাংকি পাইনি। এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, বিগত ও বর্তমানে এমপি, চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের তালিকা অনুযায়ী ট্যাংকি দেওয়া হচ্ছে। মাত্র ৩-৪ জন লোক দিয়ে সব জায়গা তদারকি করা সম্ভব না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সুবিধাভোগী চিহ্নিত করতে সরেজমিন তদন্ত ও আগের তালিকা যাচাই করা প্রয়োজন। স্বচ্ছভাবে তালিকা করা হলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে সরকারি পানির ট্যাংকি পৌঁছাবে।
মোক্তার হোসেন
কয়রা প্রতিনিধি, আজাদ বার্তা



