“মোসাহেব আলী বলছি”। চলমান ঘটনার প্রেক্ষিতে ধারাবাহিকভাবে লিখিত একটি গঠনমূলক প্রতিবাদী কলাম। আপনারা পড়ুন, লাইক, কমেন্ট শেয়ার করুন।
পর্ব-২২
অ্যাড.এম. মাফতুন আহমেদ
০১. বয়সসীমা ৩০-৩৫ নয়:
নতুন আইন নয়, পুরনো আইনের বাস্তবায়ন চাই। অবসরের পর উকালতি আর চলবে না।অনৈতিকতার পথে পা বাড়িয়ে দেবে। প্রশ্ন হলো সরকারি চাকরিতে ৩০ হলে আইন পেশায় ৩৫ কেন? আইনকে যদি কর্মময় জীবনের শুরু থেকেই পেশা হিসেবে নিতে হয়, ৩০ এর মধ্যেই আসতে হবে। ৩৫ বছর বেশি হয়ে যায়। এখনই সার্কুলার জারি করুন — ৩০ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করুন।
০২. তলেরও খাবে আগারও খাবে — চলবে না:
অধিকাংশ সমিতিতে ভিন্ন পেশা থেকে অবসর নিয়ে শেষ বয়সে আইন পেশায় ঢুকছে। পেনশনও নেবে, উকালতিও করবে — এটা সীমাহীন দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে। বার কাউন্সিল এবং স্থানীয়বারকে স্ট্রিক হতে হবে — অন্য পেশায় থাকলে আইন পেশায় নয়।
০৩. সুপ্রিম কোর্টের সনদ, নিম্ন আদালতে ৭ ধারা:
সুপ্রিম কোর্টের সনদ নিয়ে অধস্তন আদালতে নির্বাহী আদালতের ৭ ধারার মামলা নিয়ে ব্যস্ত! ভিডিও করে বলছে ‘আমি সকিনা বলছি সুপ্রিমকোর্ট অব বাংলাদেশ থেকে ‘। অথচ বট তলায় গড়াগড়ি। সর্বোচ্চ আদালতের টেমপার নষ্ট করা হচ্ছে। হাইকোর্ট বিভাগকে সনদ দেওয়ার আগে ভাবতে হবে — সে কোথায়, কোন আদালতে প্র্যাকটিস করবে?
০৪. মোহরাররা এখন উকিল:
যোগ্যতার মানদণ্ডে অনেকেই মোহরার হওয়ার যোগ্য নয়, তবুও তারা উকিল। অনেক বারে যারা মোহরারি করেছে, তাদের ওই বারে প্র্যাকটিস করতে দেওয়া হয় না। অথচ বার কাউন্সিল হু হু করে সনদ দিচ্ছে।
০৫. বেঞ্চ ক্লার্ককে স্যার বস ডাকা:
যে আঙ্গিনায় আইনজীবী তার কেরানীকে বস বলে, সেখানে বিচারপ্রার্থী কতটুকু বিচার পাবে? অধিকাংশ আইনজীবী বেঞ্চ ক্লার্কদের ঘুষ দেয় — এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
০৬. কোয়ালিটি নয়, কোয়ান্টিটি:
বিগত কয়েক বছরে বার কাউন্সিল থেকে হু হু করে সনদ নিয়ে আসছে। নেই সিনিয়র, নেই গবেষণা, নেই চেতনা — শুধু ধান্দাবাজি। কোয়ালিটি থেকে কোয়ান্টিটি বেশি — এই কোয়ান্টিটির কি প্রয়োজন?
০৭. ঘুষ আর বেঞ্চ-বার দূরত্ব:
৬০ বছর পর এসে সীমাহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক। তখন বার-বেঞ্চের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ব্যক্তির চেয়ে দেশ বড় — দলবাজি করে একটি ইনস্টিটিউশনকে ধ্বংস করা হয়েছে, ভোট বাড়াতে গিয়ে।
০৮. এআই টোনে ভিডিও, বাংলায় বলতে পারে না:
একজনকে দেখলাম এআই দিয়ে ইংরেজিতে টোন বানিয়ে ভিডিও তৈরি করছে — অথচ নির্বাহী আদালতে বাংলায় সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারে কিনা সন্দেহ। “আমি অমুক সুপ্রিম কোর্ট অফ বাংলাদেশ থেকে বলছি” — অথচ অধস্তন আদালতেও প্র্যাকটিস নেই — এটা কি প্রতারণা নয়?
০৯. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই:
সর্বত্র লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের সনদ নিলে সুপ্রিম কোর্টেই প্র্যাকটিস করা উচিত। ৬০ বছর পর কেউ কি আর বই পড়ে? অধিকাংশ ফেসবুকে ডুবে আছে।
১০. বিজ্ঞ মানে বই পড়া, ফেসবুক নয়:
পৃথিবীর কয়েকটি পেশার মধ্যে আইন পেশা অন্যতম — যার নামের আগে বিজ্ঞ। ক’খানা আইন বই পড়লে কী বিজ্ঞ? পৃথিবী সম্পর্কে যার ধারণা আছে, তিনিই বিজ্ঞ। সাধনা ও অধ্যয়নের কথা বলা হয়েছে — ফেসবুকে উবে থেকে বিজ্ঞ হওয়া যায় না। জঞ্জালে স্তূপ হয়ে আছে আইন অঙ্গন। ধীরে ধীরে সাফ করা উচিত।




The graphics are amazing and the gameplay is seamless. I really enjoy the vibe at phdremjili. Five stars from me.