spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

“আলোকিত মানুষ,এক অনন্য শিক্ষাগুরু”

🌲শাহিনা হাসান

👉সর্বশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হেডমাস্টার মোহাম্মদ আমজাদ আলী। একটি নাম,একটি আলোকবর্তিকা,একটি যুগের প্রতিচ্ছবি। তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন; তিনি ছিলেন মানুষ গড়ার এক অনন্য কারিগর, এক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষানুরাগী, এক আদর্শের প্রতিমূর্তি, যার আলো আজও ছড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের জীবনে।

মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু কিছু মানুষ তাদের কর্ম, আদর্শ এবং অবদানের মাধ্যমে সময়ের সীমা অতিক্রম করে অমর হয়ে থাকেন। হেডমাস্টার মোহাম্মদ আমজাদ আলী ছিলেন তেমনই একজন মহৎ মানুষ—যিনি শুধু একটি নাম নন, তিনি একটি ইতিহাস, একটি অনুপ্রেরণা, একটি আলোর দিশারি।

১৯৩৫ সালের ২ জুলাই, খুলনা জেলার অবিভক্ত পাইকগাছা থানার আজকে উপজেলা কয়রা থানার বাগালি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান ব্যক্তিত্ব।
শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী, অধ্যবসায়ী দৃঢ়চেতা,এবং লক্ষ্যনিষ্ঠ।

প্রতিকূল পরিবেশ, সীমাবদ্ধ সুযোগ—কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। বরং প্রতিটি বাধাকেই তিনি নিজের শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।

পিতার নির্দেশে তিনি খুলনা শহরে পাড়ি জমান এবং শুরু করেন তার শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায়। কঠোর পরিশ্রম ও মেধার বলে তিনি ভর্তি হন স্বনামধন্য খুলনা জেলা স্কুলে এবং ১৯৫১ সালে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিক পাশ করে তিনি উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যান। পরবর্তীতে বিএল কলেজ থেকে আইএ ও বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষার প্রতি তার অদম্য ভালোবাসা তাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যায়—বি.এড এবং এম.এড ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন একজন পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাবিদ হিসেবে।

তার কর্মজীবনের সূচনা হয় পাইকগাছা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আদর্শ শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করেন। বিদ্যালয়ের প্রতিটি বিষয়—শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা, ছাত্রদের নৈতিক উন্নয়ন—সবকিছুতেই ছিল তার সূক্ষ্ম নজর।

তিনি শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দেননি; তিনি শিখিয়েছেন জীবনের শিক্ষা। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবিকতা—এই গুণগুলো তিনি তার শিক্ষার্থীদের মাঝে বপন করেছিলেন। তার হাত ধরে গড়ে ওঠা অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী আজ দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত—যা তার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

স্বাধীনতার পর বিদ্যালয়ের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে তার অবদান ছিল অসামান্য। তাই তিনি যথার্থভাবেই এই প্রতিষ্ঠানের “রূপকার” হিসেবে পরিচিত।

তার চিন্তা-চেতনা ও সমাজগঠনের স্বপ্নের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো “আজাদ বার্তা” পত্রিকা। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি সমাজে সচেতনতা, জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এটি ছিল তার আদর্শের কণ্ঠস্বর, তার স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ।

আজও সেই ধারাবাহিকতা অটুট রেখেছেন তার সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ সন্তান, অ্যাড. এম. মাফতুন আহমদ। পিতার স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে তিনি নিষ্ঠার সাথে “আজাদ বার্তা” পরিচালনা করে যাচ্ছেন। একজন যোগ্য পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনি প্রমাণ করেছেন—মহৎ আদর্শ কখনো হারিয়ে যায় না, তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়।

তার পিতার প্রতি এই গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং দায়বদ্ধতা সত্যিই অনুকরণীয়। মনে হয় যেন মহান পিতার কর্মকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই তিনি এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। যেমন পিতা মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন, তেমনি তিনিও আজ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন।

জীবনের স্বাভাবিক নিয়মে ৭৮ বছর বয়সে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। আজ তিনি শায়িত আছেন পাইকগাছা সরকারি কবরস্থানে।
কিন্তু তার বিদায় কি সত্যিই বিদায়? না তিনি আজও বেঁচে আছেন তার কর্মে, তার আদর্শে, তার রেখে যাওয়া অসংখ্য গুণগ্রাহী মানুষের হৃদয়ে।

তার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাইকগাছা “হেডমাস্টার আমজাদ আলী পাবলিক লাইব্রেরি”—যা আজও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে নতুন প্রজন্মের মাঝে।

তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক, কিন্তু তার পরিচয় তার চেয়েও বড়—তিনি ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর, একটি প্রজন্মের নির্মাতা, এক আলোকিত আত্মা।

আমাদের প্রিয় দাদুভাই, শ্রদ্ধেয় স্যার—হেডমাস্টার মোহাম্মদ আমজাদ আলী।
আপনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আপনি আমাদের হৃদয়ে আছেন, থাকবেন চিরকাল।

কীর্তিমানদের মৃত্যু নেই—তারা অমর।

🛑লেখক :শাহিনা হাসান
নির্বাহী সম্পাদক
আজাদ র্বাতা (আনলাইন নিউজ) পেপার

Please follow and like us:
অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ
অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ
## সম্পাদক ও প্রকাশক **অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ** একজন প্রথিতযশা আইনজীবী, লেখক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুলনা বারে সুনামের সঙ্গে আইন পেশায় নিয়োজিত থেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। সমাজ, ইতিহাস, আইন, মূল্যবোধ ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর **১০৬টিরও বেশি গ্রন্থ** প্রকাশিত হয়েছে, যা পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত। সত্য, নির্ভুলতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি **আজাদ বার্তা**-এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন। পাশাপাশি **আজাদ টিভি** এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, জনসচেতনতা ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে **আজাদ বার্তা** নির্ভীক, দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ### উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ * শনির কবলে বাংলাদেশ * ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর খুলনা * অপসংস্কৃতির ভয়াল থাবা * জনতার জবানবন্দী * একটি অবিস্মরণীয় নাম খান-এ-সবুর * জিন্নাহ কি দ্বি-জাতিতত্ত্বের প্রবক্তা? * কালনাগিনীর ছোবলে বাংলাদেশ * বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় * আমরা বাঙালি না বাংলাদেশী * না বলা কিছু কথা

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles