নির্লোভ,নির্মোহ,সর্ব শ্রদ্বেয় ব্যক্তিত্ব,পাইকগাছা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সফল প্রধান শিক্ষক,লাখো লাখো শিক্ষার্থীদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষক,সাদা মনের মানুষ,সফল মানুষ গড়ার কারিগর,আজাদ বার্তার প্রাণপুরুষ হেডমাস্টার মোহাম্মদ আমজাদ আলীর ১৪ তম মৃত্যু বাষির্কী আজ। ২০১২ সালের ২০ অক্টোবর বাং ৫ কার্ত্তিক ১৪১৯ এ দিন সকাল ৭-০১ মি.৭৮ বছর বয়সে পিঞ্জর ছেড়ে উডে গেছে কিংবদন্তি এই প্রাণ পাখি। থেমে যায় তার বর্ণিলময় জীবন গাড়ী। কালোতীর্ণ এই জ্ঞান তাপস তাঁর কর্ম ও চেতনার মাঝে বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে চিরকাল।
তিনি ২রা জুলাই ১৯৩৫ সালে অবিভক্ত পাইকগাছা (আজকের কয়রা) উপজেলার বাগালী গ্রামে অতি সাধারণ এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
সম্পূর্ণ বৈরি সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে থেকে তিনি তৎকালীন উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন।১৯৫১ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিক,১৯৫৪ সালে খুলনা হিন্দু একাডেমী (বি.এল) কলেজ) থেকে আই.এ; ১৯৫৮ সালে একই কলেজ থেকে বি.এ.১৯৭৪ সালে বি.এড;১৯৯১ সালে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে এম.এড পাশ করেন।
তিনি ছিলেন পাইকগাছা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দীর্ঘতম প্রধান শিক্ষক। এক কথায় স্বাধীনতা উত্তর তিনি বিধ্বস্ত পাইকগাছা সরকারী স্কুলের উন্নয়নের রূপকার। সংবাদপত্র জগতে আজাদ বার্তা পত্রিকা ছিল তাঁর অনবদ্য সৃষ্ঠি। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য।
একজন সমাজ হিতৈষী হিসেবে পাইকগাছা পৌরসভা সদরস্থ ৮নং ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট নির্মানে তাঁর অবদান অনন্য। তিনি আজ আমাদের মাঝে বেঁচে নেই।পরম করুনময় মহান আল্লাহপাকের দরবারে আমরা তাঁর বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি।
আমরা জানি ,ইতিহাস হয়ে কেউ জন্ম গ্রহণ করেন না। কর্মের মাধ্যমে তাঁকে ইতিহাস সৃষ্টি করতে হয়। আমরা লক্ষ্য করেছি,মরহুম আমজাদ আলীর সততা,আদর্শ,বহুমাত্রিক প্রতিভা,একাগ্রতা এবং অধ্যবসয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন অসাধারণ।
এই পৃথিবীতে ‘চলে যাওয়া বলে’ কিছু নেই, সবই ফিরে আসে। কবির এই উক্তিটি যেন হেডমাস্টার আমজাদ আলীর জন্য যথার্থই প্রয়োজ্য। এই নাগরিক ব্যবস্তার যুগে হেডমাস্টার আমজাদ আলী জীবনভর এই সকল বৈপরত্য,বিরূপতা উপেক্ষা করে মগ্ন থেকেছেন দেশ উন্নায়নে লাখ লাখ আদর্শ ছাত্র গড়ার এক মহান ব্রতে।
তিনি সংকটে মুহুর্তে আমাদের পাশে থেকেছেন,মূল্যবান উপদেশ দিয়েছেন,আদেশ করেছেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর অনুপস্থিতি আমরা খানিকটা অসহায় বোধ করি। তাঁর ১৪ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে আমরা গভীরভাবে স্মরণ করি; শ্রদ্ধাভরে মনে রাখি তার স্মৃতি এবং আদর্শকে।

আমরা বিশ্বাস করি আমজাদ আলীরা কখনো প্রয়ত হন না। তারা নিজেদের কর্মের মাধ্যমে চিরঞ্জীব। জীবৎকালেই তিনি কিবংদন্তিতুল্য হয়ে উঠেছিলেন। অমরত্ব লাভ করেছিলেন। মৃত্যু তাঁর সেই অমরত্নকেই নিশ্চিত করলো বৈ আর কিছু নয়। এই মৃত্যু হেডমাস্টার আমজাদ আরীর শারীরিক অনুপস্থিতি মাত্র, অশরীরে তিনি আমাদের সাথে থাকবেন চিরকাল। আমরা আজ তার ১২ তম মৃত্য বার্ষিকীতে সর্বোচ্চ শান্তি কামনা করছি। প্রিয় শিক্ষক আদর্শ মানুষ গড়ার সফল কারিগর,আপনি চির শান্তি লাভ করুণ।



