🛑অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ
০১.৯০ দশকের আগে: ইত্তেফাকে স্পষ্টভাষী
সাংবাদিকতার জীবনে কত স্মৃতি। কত কথা। ৯০ দশকের পূর্বের কথা। প্রেসিডেন্ট এরশাদ তখন ক্ষমতায়। দৈনিক ইত্তেফাকে একটি কলাম পড়েছিলাম। তখন লেখকরা সরাসরি কলামে নাম লিখতেন না, নিক নাম ব্যবহার করতেন। লেখক স্পষ্টভাষী অর্থাৎ খন্দকার আব্দুল হামিদ। জাদরেল কলামিস্ট, জিয়া মন্ত্রীসভার তথ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তার লেখা ছিল নির্ভীক সত্যের দলিল।
০২.সেগুনবাগিচায় এরশাদ:
প্রেসিডেন্ট এরশাদ আকস্মিক সেগুনবাগিচায় অবস্থিত সচিবালয়ে গেলেন। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার, রাষ্ট্রপতি ক্ষমতাধর, মার্কিন রাষ্ট্রপতির মত ক্ষমতাবান। রাষ্ট্রপতি যখন সিঁড়ি বেয়ে উঠছেন, এক শ্রমিক নেতা বলছেন “এরশাদ ভাই কেমন আছেন”? বিব্রত সিকিউরিটি এবং প্রটোকল কর্মকর্তারা। ওই শ্রমিক নেতা তাৎক্ষণিক নজরবন্দী, তারপরে যা হওয়ার তাই।
০৩.রাজশাহীতে প্রটোকল ভঙ্গ: কমিশনারের তেলেসমাতি
অনুরূপ দেখলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকালে বিভাগীয় কমিশনারের তেলেসমাতি কারবার। প্রধানমন্ত্রী প্রটোকল অনুযায়ী উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের সাথে পরিচয় পর্ব করছেন। বিভাগীয় কমিশনার প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছেন। ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্স অনুযায়ী কত বড় অপরাধ? শিষ্টাচার বহির্ভূতকর্ম।মোসাহেবের অংশ। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি ছিল।
০৪. রন্ধ্রে রন্ধ্রে মোসাহেবি: ঘুষ ছাড়া পোস্টিং নয়
কথাটি কেন বললাম? দালাল মোসাহেব বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের থেকে মোসাহেবি বেশি। এমন কেউ নেই মোসাহেবি এবং কালো টাকা ছাড়া কারো পোস্টিং হয়। মুখে কি মধুর বুলি, অথচ দুর্নীতিতে শরীরে ক্যান্সার বেধেছে। ঘুষ দিয়ে জেলায় জেলায় পোস্টিং নিলে জনগণের কি সেবা করবো?
০৫. সিএসপি পি এ নজির:
সার্ভেন্ট অফ দ্য পিপল
প্রসঙ্গত স্মরণ করিয়ে দেয় সিএসপি পি এ নজির এর কথা। ৬০ এর দশকে উনি তখন রাজশাহী জেলা প্রশাসক। পাকিস্তানের মহামান্য প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আইয়ুব খান রাজশাহী সফরে আসবেন। জেলা প্রশাসক হিসেবে নিছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করার দায়িত্ব তার। তারা সত্যিকার অর্থে ছিল “সার্ভেন্ট অফ দ্য পিপল”।
০৬.ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান:
নজির “ইয়ে তোমহারা বাচ্চা হোগা?হাই আপনা বাচ্চাকো লিয়ে দুসরা ইন্তেজাম কাইছে করে”।
প্রেসিডেন্ট স্থানীয় সার্কিট হাউজে রাত যাপন করলেন। সফর সম্পর্কে তিনি সন্তুষ্ট চিত্তে মন্তব্য করলেন। এক পর্যায়ে বললেন। প্রেসিডেন্ট সাহেব চেয়েছিলেন নজির সাহেবের ছেলেমেয়েদের সাথে খেলাধুলা করবেন। সেই জামানা আজকের প্রেক্ষাপট কি এক বলা যাবে? কোন দলবাজি ছিল না, কোন মোসাহেবি ছিল না। ছিল আমলা এবং রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের চালিকাশক্তি রাজনীতিকরা সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন।
০৭. রাজা বনাম প্রজা: জনগণ কি কামলা?
স্বাধীনতাউত্তর যারা ছিলেন সৎ, তারা সব সরকারের আমলে কোণঠাসা। এরা জনগণকে ভাবে কামলা, প্রজা। আর ওরা হলো রাজা। ভাবে আমরা একটা গোষ্ঠী। মন্ত্রীরা আমাদের কথায় চলে, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী আমাদের অঙ্গুলি হেলনে টিকে থাকে। আর এখন দলবাজি, ধান্দাবাজি, চাপাবাজি, মোসাহেবি। অথচ গভমেন্ট এমপ্লয় ন্যাচারাল লিডার্স অফ দা পিপল।
০৮. দোতলায় লিফট:
সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া কোথায় আমরা কোথায়?
কখনো শুনি নাই বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র রাষ্ট্রে দু’তলায় উঠতে লিফট লাগে। এদেশ কি সিঙ্গাপুর হয়েছে? মালয়েশিয়া হয়েছে? তাদের ধারের কাছে আমরা এখনো যেতে পারি নাই। অথচ কয়েক বছর আগে তারা স্বাধীন হয়েছে। শুধু দুর্নীতির কারণে আমরা পিছিয়ে।
০ ৯. দুর্নীতির ক্যান্সার: ঘুষখোর তালিকা প্রস্তুত
এই দুর্নীতি উৎপাটন হলে রাষ্ট্র রাইট ট্র্যাকে হাটলে এই তোষামদি থাকবে না, মূর্খদের হাত থেকে রাজনীতি হাত ছাড়া হয়ে যাবে। কোথায় আমরা দিনকে দিন চলেছি? আইন কোথায়? নিয়ম শৃঙ্খলা কোথায়? রাজশাহীর ঘটনাটি সরকার কঠোর দৃষ্টিতে এনেছেন। শুধু এ ব্যাপারে কঠোর নয়, ঘুষখোরদের তালিকা প্রস্তুত করুন।চাকুরি থেকে টারমিনেট করুন।
১০. রাইট ট্র্যাকে রাষ্ট্র: যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য আসন
যদি এ দেশকে শৃঙ্খলা দুর্নীতি মুক্ত করতে চান, মাজা উঁচু করে দাঁড়ান। বলেন যোগ্য ব্যক্তিদের যোগ্য আসনে আসীন করুন। ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। এটাই আজকের সময়ের দাবী।
🛑১০ দফা সাজেশণ 🛑
১. ঘুষ দিয়ে পোস্টিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও ট্রাইব্যুনাল গঠন
২. যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য আসনে – মেধাভিত্তিক পদায়ন
৩. মোসাহেব ও ঘুষখোরদের তালিকা প্রকাশ ও ওয়েবসাইটে
৪. সৎ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত ও সুরক্ষা আইন
৫. সিএসপি পি এ নজিরের মতো সার্ভেন্ট অফ দ্য পিপল আদর্শ পাঠ্যসূচিতে
৬. warrant of Precedence ও প্রটোকল কঠোর প্রয়োগ
৭. রাজশাহীর মতো ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি
৮. দুর্নীতি দমনে স্বাধীন কমিশন ও সম্পদ বিবরণী বাধ্যতামূলক
৯. জনগণকে মালিক ভাবা, প্রজা নয় – সেবার মানসিকতা
১০. রাইট ট্র্যাকে রাষ্ট্র, মাজা সোজা করে দাঁড়ানো ও সুশাসন নিশ্চিত




Great experience so far! The layout is intuitive and I hit a nice win on my first try. Definitely give bd888fb a shot