spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

নানা মুনির নানা মত, প্রমাণ কই?

০১: কীবোর্ডের ইতিহাস আর বিবেকের প্রশ্ন: “নানা মুনির নানা মত” – এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। মত থাকবে, বিতর্ক থাকবে। কিন্তু মতের সাথে অধ্যয়ন নেই, নতুন নতুন গবেষণা নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় বসে ২ লাইনের ভুলভাল কথা লিখে দিলাম, আর দেশের শিক্ষিত জ্ঞানীগুণী সমাজ সেটা কী মেনে নেবে?

ইতিহাস এত সস্তা নয়। ইতিহাস রক্ত দিয়ে লেখা হয়। দলিল দিয়ে প্রমাণ হয়। শুধু লাইক-কমেন্টের জন্য একজন মানুষের সারা জীবনের ত্যাগকে কালিমা লেপন করা যায় না।

০ ২: “রাজাকার” শব্দটা এত হালকা?

সম্প্রতি দেখলাম একজন লিখেছেন – “সবুর সাহেবের অবদান খুলনার উন্নয়নে অসামান্য”। ভালো কথা। এই পর্যন্ত থাক।

কিন্তু পরের লাইনেই লিখে দিলেন “তিনি নাকি রাজাকার ছিলেন”।
আচ্ছা, তিনি রাজাকার ছিলেন কোন কেতাবে আছে? সেই কেতাবটির নাম কি? পৃষ্ঠা নম্বর কত?
এই প্রশ্নের উত্তর ওই নাম নাইবা বললাম পোস্টকারী দিতে পারবেন? পারবেন না। কারণ উদ্দেশ্য প্রমাণ দেওয়া না। উদ্দেশ্য শুধু জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো।

০: ৩: দলিল কথা বলে, গুজব নাসবুর সাহেব ছিলেন মুক্তিপাগল বাঙালির প্রাণভোমরা। ইতিহাস ঐতিহ্যের আলোকে প্রমাণ লাগলে হাজার হাজার ডকুমেন্টস আছে।

সবচেয়ে বড় প্রমাণ – স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে গেছেন। এমনকি ২৫ মার্চের আগের রাতেও বাংলাদেশের মুক্তির ব্যাপারে তাঁদের গোপন বৈঠক হয়েছে। যাকে বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, তাকে আজ কিছু ফেসবুক পোস্ট দিয়ে “রাজাকার” বানিয়ে দেওয়া যাবে?

০ ৪: রাজাকারের সংজ্ঞা আগে জানুন: রাজাকার কারা ছিল? যারা পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে নিজ দেশের মানুষের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন, লুটতরাজ চালিয়েছে। এখন বলেন তো, সবুর সাহেব কোন বাঙালির উপর নির্যাতন করেছেন? কার বাড়ি লুট করেছেন?
উনি যদি নৈতিক কারণে কোনো সময় পাকিস্তান সরকারকে সমর্থন করে থাকেন, সেটা কি ভারতীয় আগ্রাসনের হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য ছিল না? আজকের প্রেক্ষাপটে বসে ৫৪ বছর আগের সিদ্ধান্তকে বিচার করা কতটা যুক্তিযুক্ত?

০ ৫: কলমের দায়িত্ব: সবুর সাহেব সম্পর্কে এক লাইন লিখতে হলেও এক হাজারের বেশি বই, পত্রিকা, আর্কাইভ ঘেঁটে গবেষণা করতে হবে। তারপর কলম ধরতে হবে।

কোন প্রিন্ট মিডিয়া এই ঠুনকো, ভিত্তিহীন লেখা ছাপবে না। কারণ তাদের দায়বদ্ধতা আছে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় দায়বদ্ধতা নেই বলেই যা খুশি লেখা যায়?

শেষ কথা: সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ান
খুলনাবাসীর হৃদয় জড়ানো নাম “সবুর”। উন্নয়নের আরেক নাম “সবুর”। গুজব দিয়ে তাকে মোছা যাবে না।

তাই যারা লিখছেন তাদের বলি – প্রমাণ নিয়ে আসুন। নয়তো কলম বন্ধ রাখুন।
“সত্য কখনো চাপা থাকে না। সময় আসলে সে নিজেই কথা বলে।

Please follow and like us:
অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ
অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ
## সম্পাদক ও প্রকাশক **অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ** একজন প্রথিতযশা আইনজীবী, লেখক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুলনা বারে সুনামের সঙ্গে আইন পেশায় নিয়োজিত থেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। সমাজ, ইতিহাস, আইন, মূল্যবোধ ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর **১০৬টিরও বেশি গ্রন্থ** প্রকাশিত হয়েছে, যা পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত। সত্য, নির্ভুলতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি **আজাদ বার্তা**-এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন। পাশাপাশি **আজাদ টিভি** এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, জনসচেতনতা ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে **আজাদ বার্তা** নির্ভীক, দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ### উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ * শনির কবলে বাংলাদেশ * ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর খুলনা * অপসংস্কৃতির ভয়াল থাবা * জনতার জবানবন্দী * একটি অবিস্মরণীয় নাম খান-এ-সবুর * জিন্নাহ কি দ্বি-জাতিতত্ত্বের প্রবক্তা? * কালনাগিনীর ছোবলে বাংলাদেশ * বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় * আমরা বাঙালি না বাংলাদেশী * না বলা কিছু কথা

4 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles