জাগো বাঙালি,জাগো। আর ঘুমিয়ে থেকো না। মধ্য গগনে মেঘের ঘনঘটা। শকুনের কালো ছায়া। নিরুর বাঁশি। ক্রুরুর হাসি। হতাশার গহবরে গোটা দেশ জাতি। চলছে হিংসার উন্মত্ত খেলা। পিচ্ছিল পথ পাড়ি দিতে হবে।
এই জাতি রাষ্ট্রের ইতিহাস একদিনে সৃষ্টি হয়নি। সৃষ্টি হয়েছিল বীর বখতিয়ার খিলজী,মাহামুদ বলখী,আদম শহীদ,বীর শাহজাজাল,খানজাহান আলী, ঈশা খাঁ,সিরাজুদ্দৌলা,তিতুমীর,শয়িয়তুল্লাহ,মওলানা মোহাম্মদ আলি জওহর,মীর মোশাররফ হোসেন,ইসমাইল হোসেন সিরাজী,কাজী নজরুল ইসলামসহ অসংখ্য কৃতী পুরুষের আত্নদানে,সেই জাতি আজ দিকভ্রান্ত হয়ে বিপথে ধেয়ে চলেছে। আমাদের দেহ-মন-আত্নার উৎকর্ষ আজ ভয়াবহ আক্রমনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করতে বসেছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল একরাশ বুক বেঁধে গেয়েছিলেন-
“কাণ্ডারী ! তবে সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তরে
বাঙালির খুনে লাল হলো যেথা ক্লাইভের খঞ্জর
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায় ভারতের দিবাকর
উদিবে সে রবি আমাদেরেই খুনে রাঙিয়া পুনর্বার”।
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন জাতীয় বেঈমানদের চক্রান্তে বাংলার স্বাধীনতার শেষ দিবাকর অস্তমিত হয়েছিল পলাশীর আম্রকাননে। দু’শো বছর ধরে বাংলার মানুষ আর সেই সূর্যোদয় দেখেনি। তৎকালীন বাংলার ৪ কোটি মানুষের সামগ্রীক জীবন ঘিরে নেমে এসেছিল দুঃখ,দুর্দশা,লাঞ্চনা,নির্যাতনের কালো আমাবস্যা। মীজাফর,উমিচাঁদ,রাজবল্লব,জগৎশেঠ,ঘসেটি বেগম প্রমুখ নির্বোধ,পদলেহী,বিশ্বাসঘাতক সভাসদ,আমলা,ব্যবসায়ী,বুদ্ধিজীবীরা স্বার্থের বশবর্তী হয়ে প্রিয় জন্মভূমির স্বাধীনতা তুলে দিয়েছিল বিদেশী বেনিয়া ইংরেজদের হাতে।
তাদের বশংবদরা ড্রাগনের মত বাঁধভাঙ্গা স্রোতে দন্ত নখর তেড়ে আসছে স্বাধীন বাংলাদেশে। ঘরে ঘরে মাকশার জাল ফেলেছে। নব্য বেনিয়ার দল সৃষ্টি হয়েছে। পররাজ্য লোভী হিংসা, বর্বররা ঘরে-বাইরে নেপথ্যে কলকাঠী নাটছে। এদের মুখে গণতন্ত্রের মুখোশ,কণ্ঠে সুললিত বুলি,গায়ে পরম বৈষ্ণবের নামাবলী। এই নাগীনিরা পূর্বাহ্নে যুদ্ধ ঘোষণা না করেই সন্তর্পণে একে একে হায়দ্রাবাদ,জুনাগড়,মানভাদার,গোয়া দখল করেছে। কাশ্মীরের জনগনের আজন্ম অধিকারকে কেড়ে নিয়েছে। জাতির ভাগ্যকাশে বড়ই ক্রান্তিকাল।
এক্ষুণী সময় এসেছে বিষধর কালনাগীনীদের সম্পর্কে দেশপ্রেমিক জনগনকে সচেতন হবার। তা না হলে আগামীতে জাতির ভাগ্যের ললাটে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুনের নিষ্টুর নিয়তির লিখন যে আবার হবেনা, একমাত্র মালেকুল মউত ছাড়া কেউ জানেন না?



