spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

৩ বছরের আইন, ১০ বছরের দুর্নীতি: মধুর হাঁড়ি কারা পাহারা দেয়?

একটা দেশ চলে সিস্টেমে। সিস্টেম না থাকলে সেটা রাজতন্ত্র। আর রাজতন্ত্রে প্রজার কোনো দাম নাই। আমাদের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ চিৎকার করে বলে “জনগণ ক্ষমতার মালিক”। কিন্তু বাস্তবতা? বাস্তবে মালিক সেই সরকারি কর্মচারী, যে একটা চেয়ারকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছে।

আইন কী বলে? সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধি, পিআরবি, জুডিসিয়ারি কন্ডাক্ট — সবখানে স্পষ্ট। একটা স্টেশনে সর্বোচ্চ ৩ বছর। উদ্দেশ্য একটাই: যেন সম্পর্ক না গড়ে ওঠে, যেন “মধুর হাঁড়ি”র লোভ না জন্মায়।যেন নতুন করে দালাল সৃষ্টি না হয়।

বাস্তবতা কী? খুলনা নয় অধিকাংশ অধস্তন জুডিসিয়ারিতে, থানায়, সচিবালয়ে বা স্থানীয় জনপ্রশাসনে আপনি দেখবেন ৫ বছর, ৭ বছর, এমনকি অবসর পর্যন্ত একই টেবিল। যার বাড়ি বাগেরহাট, সে খুলনায়। যার বাড়ি সাতক্ষীরা, সে যশোরে। একই নাড়ী, একই টান।

এর ফল কী? পেশকার বা বেঞ্চ ক্লার্ক প্রকাশ্যে বিচার প্রার্থীদের বলে — যা আছে তাই দেন। কে দেখবে? কে শুনবে?”
অভিযোগ দিবেন কোথায়? সব দরজা বন্ধ। তাহলে ধরে নিতে হয় — সিস্টেমের সবাই ভাগ পায়।

সবচেয়ে লজ্জার বিষয় কী জানেন? বদলি ঠেকাতে এখন মন্ত্রণালয়ের সামনে মিছিল হয়। চাকর রাজা হয়ে গেলে যা হয় আরকি। বিচারপতি হামিদুল হক তার বইতে লিখেছিলেন, “আমি চাকর হয়েছি, আমার আবার কিসের ভয়।” আজকের চাকরদের ভয় শুধু একটা — বদলি।

সমাধান কি আকাশকুসুম?

না। দুর্নীতি কমাতে হাজার কোটি টাকার কমিশন লাগবে না। লাগবে দুইটা সিদ্ধান্ত:

০১.কঠোর বদলি নীতি: কোনো কর্মচারী দেড় বছরের বেশি এক স্টেশনে থাকতে পারবে না।

০২. নিজ এলাকায় পোস্টিং নয়: নিজ জেলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলায় নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও যদি আমরা শুধু গাড়ি-বাড়ি-অট্টালিকার তালিকা বানাই, আর সিস্টেম না বানাই — তাহলে আগামী প্রজন্মকেও এই দুর্নীতির সাগরেই সাঁতার কাটতে হবে। জনগণ মালিক। মালিকের ঘরে প্রজা রাজত্ব করবে, এটা হতে পারে না।

কলম চলবে। সংগ্রাম চলবে। কারণ মধুর হাঁড়ি ভাঙতে হলে আগে চেয়ার ভাঙতে হয়।

Please follow and like us:
অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ
অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ
## সম্পাদক ও প্রকাশক **অ্যাড. এম. মাফতুন আহমেদ** একজন প্রথিতযশা আইনজীবী, লেখক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুলনা বারে সুনামের সঙ্গে আইন পেশায় নিয়োজিত থেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। সমাজ, ইতিহাস, আইন, মূল্যবোধ ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর **১০৬টিরও বেশি গ্রন্থ** প্রকাশিত হয়েছে, যা পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত। সত্য, নির্ভুলতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি **আজাদ বার্তা**-এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন। পাশাপাশি **আজাদ টিভি** এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, জনসচেতনতা ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে **আজাদ বার্তা** নির্ভীক, দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ### উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ * শনির কবলে বাংলাদেশ * ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর খুলনা * অপসংস্কৃতির ভয়াল থাবা * জনতার জবানবন্দী * একটি অবিস্মরণীয় নাম খান-এ-সবুর * জিন্নাহ কি দ্বি-জাতিতত্ত্বের প্রবক্তা? * কালনাগিনীর ছোবলে বাংলাদেশ * বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় * আমরা বাঙালি না বাংলাদেশী * না বলা কিছু কথা

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles